মন্দিরে পুজোর জন্য লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে বচসা। তার জেরে এক যুবককে চুল ধরে এবং ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করার জন্য এক যুবতীর কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি হুগলির কোন্নগরের বারো মন্দিরের। যদিও কাউন্সিলর এবং তাঁর ছেলের দাবি, গাঁজা খাওয়ার জন্য চাঁদা তোলা হচ্ছিল। যাঁরা এই কাজ করছিলেন তাঁরা বহিরাগত।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রাক্তন-বর্তমান TMC কাউন্সিলরের মারামারি, থামাতে গিয়ে হাতাহাতি অনুগামীদের
দাবি করা হয়েছে, ওই মন্দিরে শিবরাত্রির পুজোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভিড় হয়েছিল। সেখানে পুজো দিতে গিয়েছিলেন রিষড়ার এক বাসিন্দা। সেই সময় লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে কোন্নগর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অঞ্জলি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বচসা বাঁধে। তখন তৃণমূল কাউন্সিলর যুবতীর পরিচয় জানতে চান। একইসঙ্গে যুবতী তাঁকে চেনেন কিনা, সে বিষয়েও জানতে চান কাউন্সিলর। তবে যুবতী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি তাঁকে চেনেন না। তাতেই বেজায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কাউন্সিলর। এরপর তিনি ওয়ার্ডের তৃণমূল কর্মী এবং তাঁর ছেলে শ্রীকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠান। সেখানে পৌঁছনোর পরে যুবতীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন শ্রীকান্ত।
যুবতীকে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় যুবতীর সমর্থনে এগিয়ে আসেন শান্তনু নাথ নামে এক যুবক। তখন তাঁকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন কাউন্সিলরের ছেলে। এদিকে, যুবতী সেই ঘটনা ক্যামেরাবন্দী করার সময় তাঁর মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন কাউন্সিলর। পরে সেখানে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মীকে বিষয়টি জানান আক্রান্তরা। পরে উত্তরপাড়া থানায় গিয়ে কাউন্সিলর এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান।
পুরো ঘটনায় কাউন্সিলর ও তাঁর ছেলের দাবি, মন্দিরে গাঁজা খাওয়া হচ্ছিল। চাঁদা তোলা হচ্ছিল পুজোর জন্য আসা ভক্তদের কাছ থেকে। কাউন্সিলর বলেন, ‘পুরসভা মন্দিরের দেখভাল থেকে শুরু করে সংস্কার সবই করে থাকে। সেখানে কোনও বহিরাগত এসে চাঁদা কেন তুলবে? এই কথা বলায় ওরা আমাকে অপমান করে। তখন আমি ওয়ার্ডের ছেলে মেয়েদের ডাকি।’ যুবককে ধাক্কা দিয়ে বের করার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। তবে তাঁকে মারধর করা হয়নি বলেই দাবি করেছেন কাউন্সিলর।
এই ঘটনায় তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতা প্রণয় রায় বলেন, ‘শিবরাত্রিতে পুজো দিতে এসে একজন হিন্দু পুণ্যার্থী তৃণমূল কাউন্সিলরের হাতে আক্রান্ত হলেন। এতে আবারও স্পষ্ট হল যে তৃণমূল হিন্দু বিরোধী। মেয়র ফিরহাদ হাকিম যেভাবে বিশ্বকর্মার ছুটি বাতিল করে ইদের ছুটি দিচ্ছেন। তাতে স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে গোটা রাজ্যজুড়ে হিন্দুদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে এই সরকার। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’